ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের ওপর অন্তত দুই মাস ‘অবরোধ’ আরোপের দিকে নজর দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এটি ইঙ্গিত দেয়, কারাকাসের ওপর সামরিক চাপের চেয়ে বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
ওই কর্মকর্তা জানান, ভেনেজুয়েলাকে সামরিকভাবে মোকাবেলা করার পথ এখনো খোলা। তবে লক্ষ্য অর্জনে প্রথমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ দেবে ওয়াশিংটন। এ প্রচেষ্টা এরই মধ্যে কারাকাসের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় না গেলে জানুয়ারির শেষ নাগাদ ভেনেজুয়েলা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা ঘিরে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করলেও দেশটি নিয়ে নিজেদের লক্ষ্যগুলো এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট করেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন তিনি। গত সোমবারও ট্রাম্প বলেছেন, মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছাড়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ক্যারিবীয় সাগরে এ সেনা মোতায়েনের কারণ হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। মাদক পরিবহনের অভিযোগে দেশটির নৌযানের ওপর কয়েক মাস ধরে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। একে বিচারবহির্ভূত হত্যা বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন দেশ। ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে মাদক-সংক্রান্ত বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।
এখন পর্যন্ত ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে অভিযান চালিয়েছে মার্কিন কোস্টগার্ড। ওই তেল জব্দ করা হয়েছে। রয়টার্সকে সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় আরেকটি ট্যাংকার জব্দের অপেক্ষা করছে কোস্টগার্ড। গত রোববারই ‘বেলা-১’ নামের ওই জাহাজ জব্দের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এখন আরো সেনাসদস্যদের নিয়ে নতুন করে অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর একচেটিয়া অবরোধ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা জানতে চাইলে রয়টার্সের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।